ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিটি একসময় পরিচিত ছিল ‘জুলে রিমে’ নামে। ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ওই ট্রফিটিই উঁচিয়ে ধরতেন বিশ্বজয়ীরা। সেই গল্প অনেকেরই জানা।
প্রথম বিশ্বকাপের উদ্যোক্তা ফিফা সভাপতি জুলে রিমের সম্মানে নামকরণ হওয়া এই ট্রফিটি চিরতরে নিজের করে নিয়েছিল তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
একবার চুরি হওয়ার পর আবার উদ্ধার করা হয় সেই ট্রফি, তবে ভাগ্যের পরিহাসে ১৯৮৩ সালে ব্রাজিল থেকে চুরি হয়ে যায় ট্রফিটি। ধারণা করা হয়, চোরেরা সেটি গলিয়ে ফেলেছিল, যা আজ অবধি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুরনোটি হারিয়ে যাওয়ার পর ১৯৭১ সালে শুরু হয় নতুনের সন্ধান। ৫৩টি নকশা যাচাইবাছাই শেষে বেছে নেয়া হয় ইতালীয় শিল্পী সিলভিও গাজা গাৎসানিগার অনবদ্য সৃষ্টি। ১৮ ক্যারেটের খাঁটি সোনা আর ম্যালাকাইট পাথরের দুই স্তরে নির্মিত এই ট্রফিটির উচ্চতা ৩৬ সেন্টিমিটার, ওজন ৬ দশমিক এক-সাত কেজি।
গাৎসানিগার ভাষ্যে, নিচ থেকে উঠে আসা সর্পিল রেখাগুলো যেন পৃথিবীকে আলিঙ্গন করছে, আর তার ভেতরেই ফুটে উঠেছে বিজয়ের মুহূর্তে থাকা দুই ক্রীড়াবিদ।
তবে নিয়ম অনুযায়ী, ট্রফিটি কোনো দেশ এখন আর চিরস্থায়ীভাবে পায় না। এইতো গত বিশ্বকাপ জয়ী লিওনেল মেসি বা আর্জেন্টাইনরা উদযাপনের সময় আসল ট্রফি হাতে পেলেও তারা ঘরে নিয়ে গেছেন ব্রোঞ্জ ও স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া একটি রেপ্লিকা। আসলটি ফিরে গেছে জুরিখের ফিফা সদর দফতরে।
তবে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছিল কেবল নেলসন ম্যান্ডেলার জন্য; ২০১০ সালে তাকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ রেপ্লিকা দেয় ফিফা।
ফুটবল ভক্তদের জন্য চমকপ্রদ খবর হচ্ছে, বর্তমানের এই ট্রফিটিও থাকছে না আজীবন। জানা গেছে, ২০৪২ বিশ্বকাপে আবারও দেখা মিলবে একদম নতুন নকশার ট্রফির।
Leave a Reply