নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্ক সিটির পক্ষে গ্রেফতার করা সম্ভব নয়। তবে তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে তাকে স্বাগত জানানো হবে না।
ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে ফেডারেল সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে। আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যোগ দিয়ে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করে।’
এর আগে, চলতি মাসে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি জানিয়েছিলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সিটির আইন বিভাগ আলোচনা করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনো অবস্থাতেই বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হবে না। যদিও ওই পোস্টে তিনি সরাসরি মামদানির নাম উল্লেখ করেননি।
গত বছরের মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই মামদানি বলে আসছিলেন, আইসিসির জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের নির্দেশ নিউইয়র্ক সিটির পুলিশকে দেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।
মঙ্গলবারের ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার প্রশাসন সম্ভাব্য সব আইনি পথ পর্যালোচনা করে দেখেছে এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এ ধরনের পরোয়ানা কার্যকর করার এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির নেই।
তবে, নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। একইভাবে পলাতক কোনো যুদ্ধাপরাধীকেও এখানে স্বাগত জানানো হবে না।’
মামদানির বক্তব্যের জবাবে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি নিউইয়র্কবাসীর সেবা করার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, হামাসের প্রচারণা চালানোর জন্য নয়। নিজের দায়িত্ব পালন করুন।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
আদালতের অভিযোগ, নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিয়ে ‘অনাহারকে যুদ্ধের কৌশল’ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি গাজায় হামাসবিরোধী অভিযানে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল।