কালিহাতী সংবাদদাতা:
আসামি নিজে এসে থানায় ট্রাক ফেরত দেয়ার পর অভিযোগ কারী কে না দিয়ে পুলিশ জব্দ তালিকায় ফেলে রেখেছে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বালুবাহী দুটি ট্রাক ছিনতাইয়ের অভিযোগের পর প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও দুটি ট্রাক এখনো কালিহাতী থানায় পড়ে আছে। বাদীর অভিযোগ, ছিনতাইয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কালিহাতী থানায় দেয়ার করার পরও এক রহস্যজনক কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না বরং ছিনতাই হওয়া ট্রাকটি উদ্ধারের পর সেটি নিয়ে তাকে আদালত থেকে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাদী এস. এম. মামুনুর রশিদের ভাষ্য, গত ৪ মে রাতে কালিহাতী থানার ধলাটেংগার বালুরঘাট থেকে বালুভর্তি দুটি ট্রাক চালক ও তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল বাজারের দিকে যাচ্ছিল। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাদের আটকে ট্রাক দুটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার ছেলে কৌশলে ফোন করে বিষয়টি তাকে জানান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় ফোন করে বিষয়টি জানান।
মামুনুর রশিদ বলেন, থানায় মৌখিকভাবে জানানোর পরও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরদিন, ৩০ এপ্রিল, কোকডহরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাফি খানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। সেখানে পুলিশ সুপার বিষয়টি শুনে তাকে কালিহাতী থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
তার অভিযোগ, এরপর কালিহাতী থানায় গেলে ওসির কক্ষে ঢোকার পর তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি তকমা দিয়ে অপমান ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার কাছে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মামুনুর রশিদের দাবি, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আরও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পরবর্তী সময়ে আদালতে মামলা করার উদ্যোগ নেন তিনি। ৪ মে সোমবার ছিনতাইয়ের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত এ ঘটনায় এফআইআর করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের কপি থানায় জমা দিয়ে তিনি গ্রহণপত্র নেন। ৭ মে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে গাড়ি উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা এসআই রব্বানীর হোয়াটসঅ্যাপে মামলার কাগজপত্র পাঠিয়ে গাড়ির অগ্রগতি জানতে চান বলেও জানান তিনি। এস আই রব্বানী তাকে ট্রাক দুটো পাওয়া গেছে। কখন কি ভাবে পাওয়া গেছে তখন কিছু ই না জানালেও এ বিষয় একজন সাংবাদিকের জিজ্ঞাসা বাদে এস আই রব্বানী তাকে জানান যে জনৈক সোহেল থানার এসে ট্রাক দুটো ফেরত দিয়েছে যা এখন কালিহাতী থানার দক্ষিণ পাশের মাঠে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। মামলা ট্রাক দুটো বিষয় ছিনতাই’র মামলা থাকা সত্বেও ফেরত দেয়া ব্যক্তি কে বিনা জিজ্ঞাসা বাদে নিরাপদে যেতে দেয়া এবং থানার দক্ষিণে কোন মাঠ না থাকলেও তা দেখানো কেন? এমন প্রশ্নের উত্তর উক্ত এস দিতে পারে নি।
মামুনুর রশিদের দাবি, এরপর কয়েক দিন পর সাবেক চেয়ারম্যান সাফি খানের মাধ্যমে গাড়ি উদ্ধারের অগ্রগতি জানতে চান। এর মধ্যে ১৭ মে তিনি গ্রামের বাড়িতে যান। ওই রাতে প্রায় ৯টার দিকে ফেরার পথে দুটি মোটরসাইকেল তাকে অনুসরণ করছে বলে তার সন্দেহ হয়। তিনি নদীর পাড়ে গিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নেমে ধানখেতে লুকিয়ে পড়েন। তার ভাষ্য, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সেখানে অবস্থান করার সময় বজ্রপাতের আলোয় তিনি আশপাশে কয়েকটি গাড়ি ও কয়েকজনকে খোঁজাখুঁজি করতে দেখেন। তাদের মধ্যে পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিও ছিলেন বলে তার দাবি। পরে ভোরে নদী সাঁতরে অন্য পাড়ে গিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে অন্য পোশাক নিয়ে তিনি ঘাটাইলে চলে যান।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সংবাদকর্মী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের কাছে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এ বিষয় বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরে কালিহাতী থানার তৎকালীন ওসি তৌফিক আজমকে প্রত্যাহার করে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় বলে মামুনুর রশিদ দাবি করেন।
এরপর ২ জুলাই তিনি মামলার নকল সংগ্রহ করে জানতে পারেন, তাঁর ছিনতাই হওয়া ট্রাকটি কালিহাতী থানায় জব্দ দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ৪ মে ট্রাকটি ছিনতাই হওয়ার পর ৭মে সেটি জব্দ দেখানো হয়েছে। জব্দ তালিকায় তাঁর মামলার আসামি ও ওই আসামির একজন সহযোগীকে সাক্ষী করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বাদীর আরও অভিযোগ, জব্দ দেখানো স্থান হিসেবে থানার দক্ষিণ পাশের একটি মাঠের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর দাবি, ওই স্থানে এমন কোনো মাঠ নেই। পরে তিনি থানায় গিয়ে ট্রাকটি নেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে আদালত থেকে ট্রাকের জামিন নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়।
মামুনুর রশিদের অভিযোগ, বর্তমানে ট্রাকটি কালিহাতী থানায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। রোদ-বৃষ্টিতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ট্রাকটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ছিনতাইয়ের মামলার আসামিরা যদি থানায় নিয়মিত যাতায়াত ও ওঠাবসা করতে পারেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া ট্রাক কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে থানায় জব্দ হলো, জব্দ তালিকায় মামলার আসামিদের সাক্ষী করা হলো কেন এবং জব্দের স্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।