ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৪৬ হাজার ফিলিস্তিনি। এদিকে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনের বিখ্যাত কবি রেফাত আলারির নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ২১টি হাসপাতালের সেবাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বার্তা সংস্থা এপির বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এবিসি নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজা ভূখণ্ডে চলমান ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ১৭৭ জনে পৌঁছেছে। এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই শিশু ও নারী।’
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ২৯০ চিকিৎসক নিহত হয়েছেন, ১০২টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ১৬০টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০টি হাসপাতাল এবং ৪৬টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রকে পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনের কবি রেফাত আলারির নিহত
ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনের বিখ্যাত কবি রেফাত আলারির নিহত হয়েছেন। তিনি সেখানকার তরুণ প্রজন্মের কবি ছিলেন। ফিলিস্তিনবাসীর কথা তিনি ইংরেজিতে লিখে বিশ্ববাসীকে জানাতেন।
কবি রেফাতের বন্ধু বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাতভর চালানো ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। রেফাতের আরেক বন্ধু গাজার কবি মোসাব আবু তোহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার হৃদয় ভেঙে গেছে, আমার বন্ধু ও সহকর্মী রেফাত আলারির ও তার পরিবারকে কিছুক্ষণ আগে হত্যা করা হয়েছে।’
ওই পোস্টে মোসাব আবু তোহা আরও লিখেছেন, ‘আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই না। আমরা একসঙ্গে স্ট্রবেরি তুলতে ভালোবাসতাম।’
হামাস বলেছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।
গত অক্টোবর মাসে গাজায় স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এর কয়েক দিন পর আলারির গাজার উত্তরাঞ্চল ছেড়ে যাবেন না বলে জানান।
সে সময় গাজার উত্তরাঞ্চল ছিল হামলার কেন্দ্রস্থল। কবি রেফাতের আরেক বন্ধু আহমেদ আলনাউক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেছেন, ‘রেফাতের হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক, বেদনাদায়ক ও নিষ্ঠুর। এতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল।’
দ্য লিটারারি হাব ওয়েবসাইট কবি রেফাতের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। লেখক ও সাংবাদিক রামজি বারাউদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘রেফাত আলারির শান্তিতে ঘুমাক। আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যতে আপনাকে অনুসরণ করে যাব।’
আলারির গাজার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ‘উই আর নট নম্বরস’ (আমরা সংখ্যা নই) প্রকল্পের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। এখানে গাজার লেখকরা যুক্ত ছিলেন। বাইরের দেশের অভিজ্ঞ লেখক ও পরামর্শকরা গাজার লেখকদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ইংরেজিতে লিখতে উদ্বুদ্ধ করতেন। এখান থেকেই ‘গাজা রাইটার্স ব্যাক’ নামে বইটির সম্পাদনা করা হয়। প্রকাশিত হয়েছে ‘গাজা আনসাইলেন্সড’ বই। এতে তরুণ ফিলিস্তিনি লেখকরা গাজার জীবন তুলে এনেছেন।
গাজার ২১টি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ২১টি হাসপাতালের সেবাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ১১০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ২৮৭ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। বোমা হামলা চালিয়ে অন্তত ৫৮টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে যেখানে চিকিৎসাসেবা চালু আছে সেখানে আহতদের নিয়ে যাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মরদেহের আধিক্যে হাসপাতালগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে। হাসপাতালগুলো আহতদের কোনো চিকিৎসাসেবা দিতে পারছে না। ইসরায়েলের দখলদার সেনাদের হামলায় সব চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি সেনারা স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
Leave a Reply