ছেলের লেখাপড়ার খরচের জন্য নিজের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ভ্যানটি বিক্রি করে সবুজকে টাকা পাঠিয়েছিলেন বাবা বাহরাম বাদশা (৬০)। ভ্যান না থাকায় তিনি মানিকগঞ্জে গেছেন অন্যের রিকশা ভাড়ায় চালাতে। তার কাছে নেই কোনো মোবাইল ফোন। তাই তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর এখনও কেউ জানাতে পারেনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত হন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী সবুজ আলী।
ঢাকায় দুই দফা জানাজা শেষে তার লাশ পাঠানো হয়েছে নীলফামারীতে।
এদিকে, নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া বাংলা বাজার এলাকায় সবুজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ছেলের মৃত্যুর খবরে তার মা সূর্যবানু বিলাপ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
দরিদ্র পরিবারে তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে একমাত্র সবুজ’ই লেখাপড়া করত জানিয়ে তার মা বলেন, “সবুজের বাবা সবুজের ভর্তির টাকার জন্য ভ্যান বিক্রি করে দিয়েছেন। ভ্যান না থাকায় মানিকগঞ্জে তিনি রিকশা চালাতে গেছেন। তিনি আমাদের মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দোকান থেকে ফোন করে কথা বলেন। তার কোন মোবাইল ফোন নেই। তাই তার বাবাকে এখনও এই খবর জানাতে পারিনি।”
স্থানীয় বাসিন্দা কাওছার ইসলাম বলেন, “সবুজের পরিবার খুব গরীব। সবুজ ছোট বেলা থেকেই খুব মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের। তাই তাকে সবাই সহযোগিতা ও পছন্দ করত।”
সবুজের ছোট বেলার বন্ধু রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা ছোটবেলায় একসাথে খেলাধুলা করেছি, পড়াশোনা করেছি। সবুজ ভালো ছাত্র হওয়ায় সে ঢাকায় পড়াশোনা করে। তার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এলাকার সবাই তাকে সহায়তা করত।”
এদিকে সবুজের মৃত্যুতে নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বুধবার দুপুরে জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সেখানে সাংবাদিকদের বক্তব্য রাখেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।
তিনি বলেন, “কোটা বিরোধী আন্দোলনে দেশি-বিদেশি অনেকে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেখছে, কিছু ছাত্র ভুল বুঝে আন্দোলন করছে। তারা এটাকে পুঁজি করে ছাত্রদের উস্কে দিচ্ছে।”
ঢাকায় দুই দফা জানাজা শেষে সবুজের মরদেহ এখন তার নিজ এলাকা নীলফামারীর সদর উপজেলার পথে।
চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের অদূরে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও পুরিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে বিকেল চারটার দিকে ঢাকা কলেজের সামনের রাস্তায় এক তরুণ রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আহত ওই তরুণকে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতে তাকেই সবুজ আলী হিসেবে শনাক্ত করেন সিআইডির বিশেষজ্ঞরা।
Leave a Reply